ডিজাইনার জামা কাটিং ও সেলাই টিউটোরিয়াল — সাইজ ২৬
মাপের তালিকা (সাইজ ২৬):
| অংশ | মাপ (ইঞ্চিতে) |
|---|---|
| বুক (চেস্ট) | ২৬” |
| কোমর | ২৪” |
| জামার সম্পূর্ণ দৈর্ঘ্য | ৩০” |
| কাঁধ | ১০.৫” |
| হাতার গভীরতা (আর্মহোল) | ৬” |
| হাতার দৈর্ঘ্য | ৫” – ১০” (পছন্দ অনুযায়ী) |
| গলার প্রস্থ | ৫” |
| গলার গভীরতা | সামনের = ৩.৫”, পিছনের = ২” |
| ঘের (স্কার্ট অংশ) | ৪০” – ৬০” (গেথার সহ) |
মাপ নেওয়ার সময় পরিমাপ ফিতা খুব টাইট বা বেশি ঢিলে করবেন না। বাচ্চার আরাম বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কাপড়ের পরিমাণ (গজে):
| ডিজাইন টাইপ | প্রয়োজনীয় কাপড় |
|---|---|
| সিম্পল এ-লাইন জামা | ১.৫ গজ |
| গেথার/ফ্রিলসহ ঘেরওয়ালা জামা | ২ – ২.২৫ গজ |
| ডাবল লেয়ার/ডিজাইনার গাউন | ২.৫ – ৩ গজ |
অতিরিক্ত কাপড় লাগবে যদি থাকে:
- পাফ হাতা, ফ্রিল, বেল্ট, কনট্রাস্ট অংশ
- লেইস, বোর্ডার, বো ডিজাইন ইত্যাদি
বাচ্চাদের জামার জন্য সুতি কাপড়, সিল্ক, কটন ভিসকস, জর্জেট, অর্গেনজা বা নেট ব্যবহার করতে পারেন।
কাটিং নির্দেশনা:
১. বডিস অংশ (জামার উপরের দিক):
- কাপড় দুই ভাঁজ করে নিন যেন একসাথে ডান-বাম দুই পাশের কাটিং হয়।
- বুকের মাপ: (২৬ ÷ ৪) + ০.৫” সেলাই আলাওয়েন্স = ৭”
- কাঁধের মাপ: ১০.৫ ÷ ২ = ৫.২৫”
- আর্মহোল/হাতার গভীরতা: ৬”
- গলার মাপ:
- প্রস্থ = ৫”
- গভীরতা = সামনে ৩.৫”, পেছনে ২”
- বডিসের দৈর্ঘ্য: ১০”
কাটিংয়ের সময় সাবধানে চিহ্ন দিন। সেলাইয়ের জায়গা মাথায় রেখে অতিরিক্ত ১”–১.৫” আলাওয়েন্স রাখুন।
২. স্কার্ট অংশ (নিচের ঘেরওয়ালা অংশ):
- দৈর্ঘ্য: জামার মোট দৈর্ঘ্য (৩০”) – বডিস (১০”) = ২০”
- প্রস্থ: গেথার অনুযায়ী ৪০” – ৬০”
(যত বেশি গেথার, তত ফ্লেয়ারি লুক)
গেথার দিতে চাইলে কাপড়ের প্রস্থ দ্বিগুণ বা আড়াই গুণ রাখা ভালো।
৩. হাতা:
- দৈর্ঘ্য: ৫” – ১০” (পছন্দ অনুযায়ী)
- কাটিংয়ের ধরন:
- পাফ হাতা: মাঝখানে একটু বেশি প্রস্থ নিয়ে কাটুন
- কেপ হাতা: অর্ধবৃত্ত আকারে কাটুন
- বেল হাতা: নিচে ফ্লেয়ার দিয়ে কাটুন
হাতার কাটিংও কাপড় দুই ভাঁজ করে করতে হবে, যাতে জোড়া না পড়ে।
৪. সেলাইয়ের মার্জিন:
| অংশ | মার্জিন |
|---|---|
| পাশ | ১” |
| নিচে (হেমলাইন) | ১.৫” |
| গলা ও হাতার প্রান্ত | ০.৫” (ফেসিং বা পাইপিং সহ) |
সেলাইয়ের ধাপ:
ধাপ ১: কাঁধের সেলাই
- সামনের ও পিছনের বডিস অংশ একসাথে রেখে কাঁধের দুই পাশ সেলাই করুন।
ধাপ ২: গলার ফিনিশিং
- চাইলে ফেসিং (পিছনের কাপড়) ব্যবহার করতে পারেন।
- অথবা কাপড়ের পাটি বা পাইপিং দিয়ে গলার ফিনিশিং দিন।
- সামনের গলা একটু গভীর রেখে বো লাগালে সুন্দর লাগে।
ধাপ ৩: হাতা লাগানো
- হাতা ও বডিসের আর্মহোল মিলিয়ে পিন দিয়ে লাগান।
- এরপর হাতার অংশ সেলাই করে দিন।
- পাফ হাতা হলে ওপরে ও নিচে সামান্য গেথার দিন।
ধাপ ৪: পাশের সেলাই
- হাতার নিচ থেকে কোমর পর্যন্ত দুই পাশে সেলাই দিন।
- চাইলে ভিতরে ওভারলক বা জিকজ্যাগ সেলাই দিয়ে ফিনিশিং করুন।
ধাপ ৫: স্কার্ট ও বডিস যুক্ত করা
- স্কার্ট অংশে গেথার তৈরি করুন (হাত বা মেশিনে)।
- বডিস অংশের কোমরের সঙ্গে গেথার করা স্কার্ট অংশ মিলিয়ে সেলাই দিন।
ধাপ ৬: ডিজাইন সংযোজন
- চাইলে মাঝ বরাবর বো লাগাতে পারেন।
- কোমরে কনট্রাস্ট বেল্ট দিলে সুন্দর লাগে।
- গলায় ছোট ছোট পুঁতি বা ফিতা লাগাতে পারেন।
ধাপ ৭: নিচের হেম
- জামার নিচে ১.৫” মার্জিন রেখে ভাঁজ করে সুন্দর করে হেম দিন।
ধাপ ৮: পেছনে ক্লোজিং সিস্টেম
- পেছনে চেইন লাগান বা বোতাম-লুপ তৈরি করুন।
- ছোট বাচ্চাদের জন্য হুক/বোতাম বেশি আরামদায়ক হয়।
স্টাইল সাজেশন:
- পাফ হাতা + ফ্রন্ট বো = কিউট লুক
- ডাবল লেয়ার নেট গাউন = প্রিন্সেস লুক
- চিফন/অর্গেনজা ওয়ার্লে লেইস = পার্টি লুক
- সামনে এমব্রয়ডারি, পুঁতি, লেইস ও বোর্ডার = ফেস্টিভ লুক
বাচ্চাদের জামায় অতিরিক্ত পাথর বা ভারি কাজ না করাই ভালো। কারণ সেটা পরে তারা অস্বস্তি অনুভব করতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ টিপস:
- কাপড় কাটার আগে মাপে সাবধান থাকুন। ভুল মাপ কাপড় নষ্ট করে দিতে পারে।
- নতুন হলে প্রথমে কাগজে বা পুরাতন কাপড়ে প্র্যাকটিস করুন।
- হাতের কাজ সুন্দর করতে হলে ধৈর্য দরকার। সময় নিয়ে প্রতিটি ধাপ করুন।
- প্রতিটি অংশে গার্হস্থ্য সেলাইয়ের মেশিন বা হ্যান্ড স্টিচ ব্যবহার করা যায়।